[gtranslate]
Dhaka ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

আগ্রাবাদে একীভূত ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীদের তালা

চট্টগ্রামে একীভূত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে আমানতকারীদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাতুনগঞ্জে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির এক দিন পর এবার আগ্রাবাদে একাধিক ব্যাংক শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

আজ সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদে কয়েক শ আমানতকারী মিছিল নিয়ে এসে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখায় তালা দেন। পরে তাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শাখায় একই কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়’, ‘তুমি কে আমি কে, আমানতকারী আমানতকারী’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’—এমন নানা স্লোগান দেন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিলও করেন। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী নাফিছা আফরিন নমু বলেন, ‘হেয়ার কাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, আমাদের জমা টাকা ফেরত দিতে হবে।’

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে আমার প্রায় এক কোটি টাকা জমা আছে। এখন সেই টাকা তুলতে না পেরে চরম বিপদে পড়েছি।’

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় তাঁরা শাখায় শাখায় তালা ঝোলানোর কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তাঁরা।

এক্সিম ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক এনায়েত করিম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমানতকারীদের চাহিদা বেশি থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। ’এর আগে রোববার (৩ মে) খাতুনগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে শতাধিক গ্রাহক অংশ নেন। একপর্যায়ে তাঁরা ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে অন্য শাখার সামনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সমন্বয়ে পরিচালিত কাঠামোর অধীনে রয়েছে।

About Author Information

আগ্রাবাদে একীভূত ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীদের তালা

Update Time : ০৯:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে একীভূত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে আমানতকারীদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাতুনগঞ্জে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির এক দিন পর এবার আগ্রাবাদে একাধিক ব্যাংক শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

আজ সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদে কয়েক শ আমানতকারী মিছিল নিয়ে এসে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখায় তালা দেন। পরে তাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শাখায় একই কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়’, ‘তুমি কে আমি কে, আমানতকারী আমানতকারী’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’—এমন নানা স্লোগান দেন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিলও করেন। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী নাফিছা আফরিন নমু বলেন, ‘হেয়ার কাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, আমাদের জমা টাকা ফেরত দিতে হবে।’

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে আমার প্রায় এক কোটি টাকা জমা আছে। এখন সেই টাকা তুলতে না পেরে চরম বিপদে পড়েছি।’

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় তাঁরা শাখায় শাখায় তালা ঝোলানোর কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তাঁরা।

এক্সিম ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক এনায়েত করিম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমানতকারীদের চাহিদা বেশি থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। ’এর আগে রোববার (৩ মে) খাতুনগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে শতাধিক গ্রাহক অংশ নেন। একপর্যায়ে তাঁরা ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে অন্য শাখার সামনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সমন্বয়ে পরিচালিত কাঠামোর অধীনে রয়েছে।