[gtranslate]
Dhaka ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রামেকে অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হট্টগোল

  • অনলাইন ডেক্স
  • Update Time : ০৭:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ Time View

চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে এক স্বজনকে পুলিশে দিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। অপর এক স্বজন সেনাসদস্য হওয়ায় তাঁকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ‘মবের’ শিকার হয়েছেন অভিযোগ তুলে আজ থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো সেনাসদস্যের নাম সোহেল আলী (২৯)। তাঁর পদ ল্যান্স করপোরাল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জয় আলী (২৪)। তিনি সোহেলের ভাই। তাঁরা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামের আলম আলীর ছেলে। তাঁদের মা জুলিয়ারা বেগমকে (৫০) গত রোববার রামেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর পর সোহেল আলী ও তাঁর ভাই জয় আলী ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও মো. শিবলীর কাছে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাঁদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সোহেল আলী এ সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা এসে সোহেল আলীকে মারধর করেন।

মারধরে সোহেলের মুখে জখম হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ডেকে দুই ভাইকে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার এসএম মোশাররফ হোসেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর আসামিরা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও শিবলীর সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আক্রমণাত্মক ও মারমুখী হয়ে কথা-কাটাকাটিসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন এবং ল্যান্স করপোরাল সোহেল আলী তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তখন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ভিডিও ধারণ করতে বারণ করেন। কিন্তু সোহেলের ভাই জয় তাঁদের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন ও মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে অন্য ওয়ার্ড থেকে আরও ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ উপস্থিত লোকজন তাঁদের আটক করে রাজপাড়া থানা-পুলিশকে সংবাদ দেয়।

ততক্ষণে রামেক হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন। পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে থানায় এসে এজাহার দায়ের করা হয়। বিবাদী সোহেল আলী ইন্টার্ন চিকিৎসক ও উপস্থিত লোকজনের হাতে আটকের সময় সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুলিয়ারা বেগমের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর এই মামলামূলে সামরিক আইনে বিচারের জন্য সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগের দিন রোববারও হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি হয়। পরদিন সোমবারও একই ঘটনা ঘটে। এই দুই দিন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হেনস্তা ও মবের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।

আজ ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি বিষয়টি উল্লেখ করে এক নোটিশে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী তাঁরা সকাল থেকেই মানববন্ধন ও সমাবেশ করছেন। এতে রোগীরা ওয়ার্ডে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসক পাচ্ছেন না।

About Author Information

রামেকে অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হট্টগোল

Update Time : ০৭:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে এক স্বজনকে পুলিশে দিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। অপর এক স্বজন সেনাসদস্য হওয়ায় তাঁকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ‘মবের’ শিকার হয়েছেন অভিযোগ তুলে আজ থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো সেনাসদস্যের নাম সোহেল আলী (২৯)। তাঁর পদ ল্যান্স করপোরাল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জয় আলী (২৪)। তিনি সোহেলের ভাই। তাঁরা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামের আলম আলীর ছেলে। তাঁদের মা জুলিয়ারা বেগমকে (৫০) গত রোববার রামেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর পর সোহেল আলী ও তাঁর ভাই জয় আলী ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও মো. শিবলীর কাছে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাঁদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সোহেল আলী এ সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা এসে সোহেল আলীকে মারধর করেন।

মারধরে সোহেলের মুখে জখম হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ডেকে দুই ভাইকে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৩টার দিকে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার এসএম মোশাররফ হোসেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর আসামিরা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও শিবলীর সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আক্রমণাত্মক ও মারমুখী হয়ে কথা-কাটাকাটিসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন এবং ল্যান্স করপোরাল সোহেল আলী তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তখন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ভিডিও ধারণ করতে বারণ করেন। কিন্তু সোহেলের ভাই জয় তাঁদের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন ও মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে অন্য ওয়ার্ড থেকে আরও ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ উপস্থিত লোকজন তাঁদের আটক করে রাজপাড়া থানা-পুলিশকে সংবাদ দেয়।

ততক্ষণে রামেক হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন। পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে থানায় এসে এজাহার দায়ের করা হয়। বিবাদী সোহেল আলী ইন্টার্ন চিকিৎসক ও উপস্থিত লোকজনের হাতে আটকের সময় সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুলিয়ারা বেগমের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর এই মামলামূলে সামরিক আইনে বিচারের জন্য সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগের দিন রোববারও হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি হয়। পরদিন সোমবারও একই ঘটনা ঘটে। এই দুই দিন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হেনস্তা ও মবের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।

আজ ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি বিষয়টি উল্লেখ করে এক নোটিশে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী তাঁরা সকাল থেকেই মানববন্ধন ও সমাবেশ করছেন। এতে রোগীরা ওয়ার্ডে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসক পাচ্ছেন না।